স্টালিন বনাম হিটলারঃ ইতিহাসের কুখ্যাততম খুনী কে? (১ম-পর্ব)

বিপ্লব পাল

(১)

এই লেখা ২০০৮ সালে লিখতে বাধ্য হচ্ছি-এটাই আমার সব থেকে বড় দুর্ভাগ্য। নানান ইফোরামের আলোচনা থেকে আমি আতংকিত-এই দুই মহান খুনীর ভূত নতুন প্রজন্মের জাতীয়তাবাদি এবং কমিনিউস্টদের মাথায় দিব্বি করে খাচ্ছে। এই দুই খুনীর ধাত্রীগৃহ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ান যতই এদের দুনিয়ার কুখ্যাততম জল্লাদ বলে স্বীকার করে নিক না কেন[১], আমাদের উপমহাদেশে হিটলার-স্টালিন ভক্তের অভাব নেই। আর এস এস এবং হিন্দুত্ববাদি নেতারা, প্রকাশ্যেই হিটলারের ভক্ত। আর এস এসের অফিসে  হিটলারের ফটো এখনো শোভা পায়-আফটার অল আর এস এসের উৎসস্থল আর্য্য জাতীয়তাবাদ। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরালায় ঘটা করে স্টালিনের জন্মদিন পালন করা হয়-সেই স্টালিন, যাকে তার মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে সোভিয়েত রাশিয়াতেই সবথেকে ঘৃণ্যতম মানুষ তথা পতিত কম্যুনিউস্ট বলে ঘোষনা করা হয় [২]। দুজনের জীবনীতেই অদ্ভুত মিল আছে।  মানুষের জীবনের মূল্য পিঁপড়ের চেয়ে কম বলে মনে করতেন দুজনেই। যৌবন এবং বাল্যকাল থেকে এত মৃত্যু দেখেছেন-শেষ পর্যন্ত মৃত্যুই জীবনের সকল সমস্যার সমাধান বলে মনে করতেন এরা। মৃত্যুকে নিয়ে অবশেষন-কাল্ট অব স্টালিন এবং হিটলারকে একই সূত্রে গেঁথেছে। একই আদর্শবাদের পথিক এই দুই নরঘাতক-স্যোসালিস্ট ন্যাশানালিজম বা সমাজবাদি জাতিয়তাবাদ। ওপরের রং নাজিজম বা কম্যুনিজম যাই হোক না কেন, আসলে দুজনেই ডিক্টেটর হওয়ার পথে ইউরোপের চিরচারিত জাতিয়তাবাদি ফর্মুলাকেই হাতিয়ার করেছেন-পিতৃভূমি, পিতা এবং পিতৃভূমির প্রতি আনুগত্য। মিডিয়া দখল করে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে নিজেদের ” জাতির পিতা” ইমেজ প্ল্যান্টেশন করেছেন অসংখ্য খুনের আড়ালে আবডালে। এবং কি আশ্চর্য্য তাদের মিডীয়া ম্যানুপুলেশন! আজও তাদের ভূতের  “কৃতিত্বে” বিশ্বাস করে অগুন্তি মানুষ!  অথচ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে দুজনেই অত্যন্ত সাধারন মেধার মানুষ ছিলেন-খুন করে ভয় দেখিয়ে নিজের ক্ষমতার একাধিপত্য  বজায় রাখার ব্যাপারে দুজনেই ছিলেন পারদর্শী। গণহত্যার ব্যাপারে দুজনের মেধা পরীক্ষা করলে দেখা যাবে- এ বলে আমায় দেখ। সেখানে দুজনেই অসম্ভব মেধাবী।

 ডানে হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্প, বাঁয়ে  স্ট্যালিনের গুলাগঃ নামে আলাদা হলেই জাত আলাদা?

 বাল্যকালঃ স্টালিন এবং হিটলারে বাল্যকালে অদ্ভুত মিল হচ্ছে-দুজনেই পিতৃপ্রেম থেকে বঞ্চিত। বরং বলা যায় অত্যাচারী মদ্যপ পিতার সন্তান। মায়েরাই অনেক কষ্টে মানুষ করেছেন-এবং জীবনের প্রথম থেকেই এরা ব্যাক্তিগত জীবনে এত নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন-এদের কাছ থেকে পরবর্ত্তী জীবনে মানবতা আশা করাটাই অন্যায়। স্টালিনের মদ্যপ পিতা বেসেরিয়ান,  তাকে ১২ বছর বয়সে  স্কুল থেকে ছাড়িয়ে জুতোর ফ্যাক্টরীতে ঢুকিয়ে দেন। স্টালিনের মা কিটোভেন পাদ্রীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন এবং স্কুলে আবার ভর্ত্তি করান। এই ঘটনার পর বেসেরিয়ান স্টালিনের মাকে চিরতরে ত্যাগ করেন। অর্থকষ্টে  কিটোভেন নিজের চরিত্র হয়ত ঠিক রাখতে পারেন নি-কিন্ত যা করেছেন পুত্রের শিক্ষার জন্যে আত্মত্যাগ করেছেন। পিতার ন্যায় তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে কারখানায় ঢোকান নি। অথচ, মায়ের স্খলিত চরিত্রের জন্যে স্টালিন প্রায় তাকে বেশ্যা বলে তিরস্কার করেছেন। ১৯৩৩ সালে মৃত্যুর পরেও মাকে দেখতে যান নি।  একবারো ভেবে দেখেন নি,  তার শিক্ষার জন্যেই কিটোভেনের আত্মত্যাগ । নারীজাতির প্রতি বিদ্বেশ ছোটবেলা থেকেই স্টালিনের জীবনে এত তীব্র -পরবর্ত্তীকালে তার তিন স্ত্রীই এর জন্যে ভুগে আত্মহত্যা করেছেন বা স্টালিন তাদের খুন করেছেন। সেই প্রশঙ্গে পরে আসছি। 

     হিটলার স্টালিনের একদশক জুনিয়ার ( স্টালিনের জন্ম   ডিসেম্বর ১৮,১৮৭৮- হিটলারের ২০ই এপ্রিল, ১৮৮৯)। হিটলারের পিতা আলিয়জ হিটলার, স্টালিনের বাবার মতন সমান অত্যাচারী ছিলেন। হিটলার তার তৃতীয় স্ত্রী ক্লারার সন্তান। মেইন ক্যাম্পে নাম না উল্লেখ করে হিটলার যে মদ্যপ বৌ পেটানো স্বামীর কথা লিখেছিলেন্-সে আর কেও নয়-তার বাবা আলিয়জ। স্টালিনের মতন, হিটলারের বাবাও চাইতেন ছেলে বাপের প্রফেশনে যোগ দিক। হিটলার বাবার হাতে প্রচন্ড মার খেতেন-এই ভাবেই ছোটবেলা থেকে ফ্যামিলি ভায়োলেন্সের মধ্যেই দিয়েই, তার মধ্যে এক নিষ্ঠুর মননের জন্ম দেয়। যাইহোক স্টালিন তাও স্কুলের ফার্স্ট বয় ছিলেন-হিটলার কিন্তু হাইস্কুল পাশই করতে পারলেন না! ফাইন আরর্টস স্কুলেও দুবার ঢুকতে ব্যার্থ হলেন। স্থপতি হওয়ার স্কুলে ঢুকতে চাইলেন-সেখানেও ব্যার্থতা! স্টালিনের এক্যাডেমিক জীবন বরং অর্থনৈতিক কারনে ব্যার্থ। টিফলিসের অর্থডক্স সেমিনারীতে টাকা পয়সার অভাবে স্টালিনকে ড্রপ আউট করতে হয়। কিন্তু তার মধ্যেই ছাত্রদের ওপর সেমিনারীর নজরদারী কিভাবে ভয় এবং ভীতির সাহায্যে মানুষকে কন্ট্রোল করা যায়-সে সম্মন্ধে স্টালিনের বাস্তর অভিজ্ঞতা হয়। যা পরে তিনি গোটা সোভিয়েত ইউনিয়ানে কায়েম করবেন।

 যৌবন এবং বিপ্লবী কর্মকান্ডের শুরুঃ স্টালিন এবং হিটলারের বিপ্লবী কর্মকান্ড এবং পরবত্তীতে তাদের পারসোনালিটি কাল্টের গঠন বোঝার জন্যে এই অধ্যায় জরুরী। স্ট্যালিনকে ১৮৯৯ থেকে ১৯১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গোপনে বিপ্লবী কর্মকান্ড সংগঠিত করতে হয় জারের পুলিশ ওখরানার বিরুদ্ধে চোর পুলিশ খেলে। এই অধ্যায়ে স্টালিন ছিলেন বলশেভিক গ্যাং লিডার-খুন, ব্যাঙ্ক ডাকাতি, রাহাজানি, এক্সটর্শন সবকিছুই করেছেন পার্টির জন্যে। বলশেভিক পার্টিতে একমাত্র লেনিন ছাড়া আর কারোর সুনজরে ছিলেন না। এমনকি মেনশেভিকরা ব্যাঙ্ক ডাকাতি বন্ধ করতে চাপ দিলে, লেনিন ই বারবার বিপ্লবকে ফাইনান্স করার জন্যে স্টালিনের ব্যাঙ্ক ডাকাতিকে সমর্থন  করেছেন। বাকুর তৈল ব্যারনদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, গুন্ডাদলদের বলশেভিকদের ছাতায় আনার ব্যার্থ প্রচেষ্ঠা কোন কিছুই স্টালিনের কর্মকান্ড থেকে বাদ যায় নি। লেখালেখি করার সুযোগ পেয়েছেন কম- দীর্ঘ আঠারো বছর মাত্র দুবার স্বল্প সময়ের জন্য পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন -প্রথমে বাকুতে ( ব্রেদজোলা বা সংগ্রাম নামে পত্রিকা সম্পাদনা করতেন-১৯০১) এবং পরে প্রাভদার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হন।  দারিদ্রর সাথে সংগ্রাম করতে করতেই তার উত্থান-তাই পার্টিতে স্বচ্ছলদের “মধ্যবিত্তপনার আঁতলামো” কখনোই তার সহ্য হয় নি। ১৯০৭ সালে লন্ডনে রাশিয়ান স্যোশাল ডেমোক্রাটিক লেবার পার্টির পঞ্চম কংগ্রেসে ট্রটস্কির সাথে প্রথম দেখা। প্রথম দর্শনেই, তাকে গুড ফর নাথিং বলে স্টালিনের মনে হয়েছিল। পার্টির বুদ্ধিজীবিরাও সদয় ছিলেন না-স্টালিনকে বরাবর তারা গুন্ডা-গর্দি বলেই মনে করেছেন। মেনশেভিকদের ভেঙে বলশেভিকরা যখন প্রথম পার্টি কংগ্রেস ডাকল ১৯১২ সালে (প্রাগ), সেখানেও প্রথম বলশেভিক সেন্ট্রাল কমিটিতে তিনি ছিলেন না। সেন্ট্রাল কমিটির কিছু সদস্য জারের পুলিশের হাতে ধরা পড়লে, লেনিন তাকে সেন্ট্রাল কমিটিতে  ঢোকান। বস্তুত লেনিনই স্টালিনকে এই দীর্ঘ আঠারো বছর গ্রুম করেছেন-পার্টিতে স্টালিনকে সেক্রেটারী জেনারেল (১৯২৩) করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পার্টির বিরুদ্ধে গিয়ে স্টালিনকে তুলে এনেছেন লেনিন। সুতরাং মৃত্যুর আগেই লেনিন যতই লিখুন স্টালিনের স্বৈরাচার বিপ্লবকে ধ্বংশ করবে, তাই ওকে সেক্রেটারী জেনারেল পোষ্ট থেকে সরানো হৌক-ততদিনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন তার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অনেক কবার তাকে জারের পুলিশ সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করেছে।  স্টালিনের সময় রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে-সবাইকে সাইবেরিয়ার গুলাবে (কনসেণ্ট্রেশন ক্যাম্প) পাঠানো হত-যেখানে প্রথম শীতেই ৯০% কয়েদি মারা পড়ত। আর যে জারের  দমন নীতিকে কমিনিউস্টরা এত সমালোচনা করেন-সেই দমন নীতির নমুনা হচ্ছে-স্টালিন তিনবার রাষ্ট্রদোহিতার অভিযোগে সাইবেরিয়াতে নির্বাসিত হন। প্রথমবার নভাইদা নামে একটা ছোট্ট গ্রামে-মাত্র কয়েক মাস ছিলেন (১৯০৩)। দ্বিতীয়বার পাঁচ বছরের জন্যে নির্বাসিত হলেন ছোট সাইবেরিয়ান শহর সলভাইচেগস্কে (১৯১০)। তখন সাইবেরিয়াতে নির্বাসন মানে স্টালিনের জমানার মতন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে কাটানো নয়। সাইবেরিয়ার গ্রামে গিয়ে থাকতে হত। এবার সেখানে রীতিমত মারিয়া নামে তার গৃহকত্রীর সাথে রোমান্সে মাতলেন স্টালিন-একটি ছেলেও হল। কনস্টানটাইন। যদিও এই রোম্যান্স এবং অবৈধ পুত্রকে প্রকাশ্যে কখনোই স্বীকার করেন নি স্টালিন-কনস্টানটাইনের শিক্ষা এবং পার্টিতে নিশ্চিত পজিশন সবই গোপনে ঠিক করে পিতার দ্বায়িত্বও ভোলেন নি। আবার নিজের ইমেজে আঁচ ফেলতেও দেন নি! সেবার মাত্র একবছর বাদেই ছাড়া পেয়েছিলেন-তবে পরের বার তাকে তুরুকানস্ক নামে দুর্গম সাইবেরিয়ান শহরে পাঠানো হয় (১৯১৩)।  এখানে আদিবাসিদের সাথে মাছ ধরে এবং পশু শিকার করে এবং তৎসহ লিদিয়া পেরেপাইগিনা নামক তের বছর বয়স্ক এক বালিকার সাথে রোমান্স করে দুবছর কাটিয়ে দিলেন। লিদিয়া পরে স্টালিনের দ্বিতীয় স্ত্রী হবেন-যাকে স্টালিন খুন করতে বাধ্য হবেন ১৯৩৩ সালে। যাইহোক ১৩ বছর বয়স্কা লিদিয়ার সাথে ‘প্রগ্রেসিভ স্টালিন’ যখন প্রেমে আচ্ছন্ন, তখন পাত্রর বয়স ৩৫। সেটাও আমার বক্তব্য না-যেসব বঙ্গজ কমিনিউস্টরা জারের দমন নীতির কথা তোলেন-তারা একবার ও কি ভেবে দেখেছেন, স্টালিন ত তিনবার সাইবেরিয়াই গিয়ে দুটি বিয়ে করে, দুই পুত্রের জন্ম দিয়ে চলে এলেন বিপ্লব করতে সশরীরে। কিন্তু স্টালিন যাদের  দেশোদ্রোহিতার জন্যে সাইবেরিয়াতে পাঠাতেন তাদের খুব সামান্যই প্রথম শীত কাটাতেই অক্কা পেত।[3] এবং যে কোটি খানেক লোক গুলাগে মারা যায় তাদের প্রায় সবাই নিরাপরাধ ছিলেন-কোটা ভর্তি করতে এন কে ভি ডী  র‌্যান্ডমলি যাকে পেত, তুলে আনত যেখান সেখান থেকে। তারপর দাঁত ভেঙে বা আঙুল ছেঁচে অপরাধ স্বীকার করানো হত [4]। জারের দমন নীতির পাশে স্টালিনের খুনী নীতি কি খুব মহিমাউজ্জ্বল?

      আরেকটা ছোট ঘটনার উল্লেখ না করলেই না। হামেট বা মুসলীম বলশেভিক পার্টির প্রতিষ্ঠাতাও স্টালিন। উদ্দেশ্য ছিল ইরান এবং আজারবাইজানে বলশেভিক বিপ্লব। কিন্তু তার জন্যে আলাদা “মুসলীম বলশেভিক পার্টি” কেন?  বলশেভিকদের ধর্ম বস্তুটা কি? আসলে সেই সময় বাকুতে মুসলীমরা সংখ্যাগুরু হলেও, তেলের মালিক ছিল ইহুদি আর ক্রীষ্ঠানরা। তাদের বিরুদ্ধে মুসলীমদের রাগ কাজে লাগিয়ে বলশেভিক বেস বাড়াতে চেয়েছিলেন স্টালিন। সেই উদ্দেশ্যে বাকুতে মুসলিমরা যে খ্রীষ্ঠানদের বিরুদ্ধে জাতিদাঙ্গা শুরু (১৯০৭) করে, তার নাটের মুলে ছিলেন স্টালিন। যদিও বলশেভিকরা সেটাকে পরবত্তীকালে তেলের মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের বিদ্রোহ বলেই দেখেন।  জালনোটের কারবার, ব্যাঙ্ক ডাকাতি, তোলাবাজি -সব কিছুতেই হাত পাকিয়েছিলেন স্টালিন। তবে সবটাই পার্টির জন্যে। ১৯০৭ সালে এম্পিরিয়াল ব্যাঙ্ক ডাকাতির ২৫০,০০০ রুবল (যার আজকের মূল্য চারমিলিয়ান ডলার) সবটাই জেনেভায় আত্মগোপন করে থাকা লেনিনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তার প্রথম স্ত্রী এক্তারিনা দারিদ্র এবং যক্ষায় মারা যায়। অথচ সেই ২৫০,০০০ রুবলের এক পয়সাও স্টালিন তার বৌয়ের চিকিৎসার জন্যে নেন নি। এমনকি প্রবল দারিদ্রের জন্যে প্রথম সন্তান ইয়াকভকে দাদুর কাছেই রেখে এলেন। এই ঘটনার পর স্টালিন জানিয়েছিলেন- তার জীবনে মানবিকতার কিছু মাত্র অবশিষ্ট ছিল না। সুতরাং তিনি এতদিন যা অপরাধ করেছেন-বলশেভিক বিপ্লবের উদ্দেশ্যেই করেছিলেন। এক্ষেত্রে স্টালিনের খাঁটি বিপ্লবী। তবে পার্টির বুদ্ধিজীবিরা তাকে ঘৃণা করেছেন বরাবর-তার আত্মত্যাগকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেন নি। ঠিক এই কারনেই বোধ করি গ্রেট পার্জের সময়,বুদ্ধিজ়ীবিদের খুন করে সব থেকে বেশী খুশী হতেন স্টালিন। ট্রট, বুখারীনের মতন বুদ্ধিজীবিরা পার্টির এসেট নন-লায়াবিলিটি, ঘনিষ্ঠ মহলে সেই ঘৃণা কখনোই চেপে রাখেন নি[5]। ট্রটকে নির্বাসনে তাড়ানোর সময় তাকে জনসমকক্ষে হাতকড়া পরিয়ে প্যারেড করিয়ে হিউমিলিয়েট করানোর আইডিয়াটাও তার! এবং সেই ফিল্ম রাশিয়াতে দেখানো হত বার বার, বোঝাতে যে স্ট্যালিন লাইনে টো না করলে, ট্রটস্কির মতন দিকপালেরই যদি এই হাল হয়-বাকিদের কি হতে পারে!  ভয় দেখানো জন্যে মিডিয়ার ব্যাবহারে স্ট্যালিন এবং গোয়েবেলের তুলনা বারবার আসবে। সেই প্রশঙ্গে পড়ে বিশদ আলোচনা করব।

 এডলফ হিটলারকে তুলনামুলক ভাবে গণতান্ত্রিক পথেই উঠতে হয়েছে। সুতরাং বক্তৃতা এবং লেখাই ছিল হিটলারের হাতিয়ার। স্ট্যালিন সেই অর্থে ছিলেন স্ট্রীট ম্যানেজার। স্ট্যালিনের বক্তৃতা হিটলারের তুলনায় একদম ম্যারমেরে। কিন্ত অর্গানাইজার হিসাবে স্ট্যালিন অনেক বেশী সফল। নাজি পার্টীতে হিটলারের মূলকাজ ছিল শ্রেফ বক্তৃতা দেওয়া এবং স্স্ট্রাটেজী ঠিক করা। পার্টি গঠনের কাজ করতেন গোয়েবেল। নাজি পার্টিতে হিটলারের কতৃত্ব কখনোই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় নি। ইহুদিদের বিরুদ্ধে যখন ঘৃণা ছড়াচ্ছিলেন -অসবার্গে পার্টি নেতৃত্ব প্রথম এবং শেষ বারের মতন্ বিদ্রোহ করবে। নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যে, হিটলার পার্টি থেকে পদত্যাগ  করতে চাইলেন (২১ জুলাই, ১৯২১)। হিটলারের জন্যেই যে পার্টির উত্থান-তা কি হিটলার ছাড়া ভাবা যায়। হিটলার ও মওকা বুঝে ৫৪০-১ ভোটে নিজেকে পার্টির সুপ্রীম বা ফুয়েরার বানালেন। এই ব্ল্যাকমেলের স্ট্রেটেজীতে স্ট্যালিনও সিদ্ধহস্ত ছিলেন। নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখলের জন্য ইনাদের কুকীর্তির লিস্টটা পরে আলোচনা করব। আপাতত শুধু এটা বোঝা যাক (১) স্ট্যালিন যেমন জর্জিয়ান ছিলেন, হিটলার ছিলেন অস্ট্রিয়ান। ফলে স্টালিনকে যেমন রাশিয়ানদের প্রতি আনুগত্য একটু বেশী প্রমান করতে হয়েছে-সেই দায়টা হিটলারের মধ্যেও ছিল (২) দুজনেই জনগণের মন বুঝতেন-পিপলস রিডিং ছিল অসাধারন।

 হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে চারবছর ধরে ব্যাভেরিয়ান রেজিমেন্টের হয়ে ফ্রান্স-বেলজিয়াম ফ্রন্টে যুদ্ধ করেছেন। দুবার আইরন ক্রসও পেয়েছেন। তার এই যুদ্ধ-অভিজ্ঞতাই, ভবিষ্যতে পতনের কারন হবে। কারন, জার্মানীর সমস্ত যুদ্ধে জেনারেলদের স্ট্রাটেজ়ীতে হিটলার নাক গলাতেন-এবং রাশিয়া থেকে আফ্রিকা, সব বাজে সিদ্ধান্তগুলোই তার নেওয়া।  স্টালিন কাঁধের হাড় ঠিক না থাকায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেওয়া থেকে অব্যাহতি পান। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, স্ট্যালিন যুদ্ধের সমস্ত  স্ট্রাটেজী জেনারেলদের হাতেই ছেড়ে দিয়েছিলেন-কারন তিনি জানতেন, সে ক্ষমতা তার নেই। যদিও যুদ্ধ জেতার পর, সমস্ত প্রোপাগান্ডা ফিল্মে দেখানো হবে, তিনিই স্ট্রেটেজীস্ট [6]।সোভিয়েতের প্রতিটা এচিভমেন্টের জন্যে মিডীয়া, তার আদেশে  শুধু তারই জয়গান গাইত!  ক্রুশ্চেভের জমানায়, ডিস্টালিনাইজেশনের সময়-এসব প্রপাগান্ডা ফিল্ম বাতিল করা হয়। 

 যাইহোক যুদ্ধক্ষেত্রে নার্ভ গ্যাস খেয়ে কিছুদিন অন্ধত্বের মধ্যে কাটাতে হয় হিটলারকে। কিন্ত তার এই মৃত্যু অভিজ্ঞতার জন্যেই অনেক মনোবিদ বলেন-হিটলার মানুষ এবং ইঁদুরের মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য করতেন না। যদিও, তিনি জার্মান জাতিয়তাবাদের জয়গান গাইতেন, আদতে ছিলেন অস্ট্রিয়ান সিটিজেন। সেকারনে সেনাবাহিনীতে উঁচু র‌্যাঙ্কে উঠতে পারেন নি। তবুও তিনি জার্মানদের থেকে বেশী জার্মান সেটা সব জ্বালাময়ী বক্তৃতাতেই প্রমান  করতেন। ন্যাশানাল স্যোশালিস্ট জার্মান ওয়ার্কারস পার্টিতে তার উত্থান অবশ্য সুবক্তা হিসাবে। ভার্সাই এর চুক্তিতে জার্মানদের যে নিষ্ঠুর ভাবে অপমান করা হয়েছে-তা জ্বালাময়ী ভাষ্যে সর্বত্র প্রচার করতেন। পুঁজিবাদ, মার্ক্সবাদ এবং ইহুদিদের দায়ী করতেন জার্মানদের দুর্দশার জন্যে। বাজারে তা খেতও ভাল। এই ভাবেই ভেবে বসলেন জার্মানরা তার পাশেই আছে। এবং সেই অনুযায়ী ১৯২৩ সালে মিউনিখে বিপ্লবী সরকারের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ব্যার্থ হলেন-বুঝলেন মার্কেট আছে কিন্তু  তার রাজনৈতিক  দর্শন এখনো জনগণ বোঝে নি। রাষ্ট্রোদ্রোহের অভিযোগে জেল খাটতে গিয়ে লেখার সেই সুযোগ এসে গেল। জার্মানীর একট বড় অংশ তার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকায় জেলে থাকতেন রাজার হালে। রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে সেক্রেটারীও জুটলো। এই ভাবেই লিখে ফেললেন আত্মজীবনী “মেইন ক্যাম্প”।

বস্তুত আমাদের বিজেপি বা বাংলাদেশের বি এন পি্র ঘৃণার জাতিয়তাবাদি রাজনীতির আরো গভীর নির্যাস এই বইয়ে পাওয়া যাবে। হিটলার ইতিহাস পড়তেন খুব বেশী-ফলে জার্মানীর দুর্দিনে, নিজেদের ব্যার্থতার জন্যে ফ্রান্স, আমেরিকা, মার্ক্সবাদ, ইহুদি ইত্যাদি জাতির শত্রু দাঁড় করিয়ে নিজের ভিত শক্ত করলেন। ঠিক যেমন ভাবে বিজেপি এবং বি এন পি  জাতির শত্রুতত্ত্বের ওপর বিশেষ জ়োর দিয়ে থাকে। তারই সুপ্রীম থিসিস। যেকারনে হিন্দুত্ববাদি নেতারা, হিন্দুত্ববাদি রাজনীতির একদম প্রথম দিন থেকেই হিটলারের আর্য্য জাতিয়তাবাদের সব থেকে বড় ভক্ত [7।  অবশ্য একথা মনে করার কারন নেই হিন্দুত্ববাদিরাই একমাত্র হিটলার ভক্ত পাপী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্যালেস্টাইনের মুক্তি আন্দোলনের সব থেকে বড় জাতীয়তাবাদি নেতা   হাজ আমিন আল হুসেনি হিটলারের সাথে সাক্ষাত করে প্যালেস্টাইনে ইহুদি নিধনের জন্য মুসলিম প্যান্থার বাহিনী গঠন করেন। মিশর তথা আরব জাতিয়তাবাদের আবিসাংবাদিত নেতা গামেল আবদেল নাশেরও হিটলারের অনুগত ভক্ত ছিলেন[8]।  আর আমাদের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসকেই বা বাদ দিই কেন!  আনোয়ার সাদাত, ইরাকি বার্থ পার্টি থেকে সৌদি রাজা ইবন সাউদ সবাই হিটলারের গুনমুগ্ধ ভক্তের দলেই পড়েন [8]। হিন্দুত্ববাদিদের হিটলার প্রীতি নিয়ে গালাগাল দেওয়ার সময়,  আরব জাতিয়তাবাদি নেতারদের হিটলার প্রীতিও মনে রাখা উচিত। কারন “জাতিয়তাবাদ”  দর্শন কত ভয়ংকর এবং বিকৃত হতে পারে কোন দেশের সংখ্যালঘুদের জন্যে, তা এই মেইন ক্যাম্প এবং তার পরবর্ত্তীতে নানান দেশের জাতিয়তাবাদি আন্দোলনে এর প্রভাব না  দেখলে বোঝা যাবে না।

পরের অধ্যায়ে হিটলার এবং স্ট্যালিন কিভাবে গুপ্ত হত্যা,  কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পে বুদ্ধিজীবি হত্যা এবং মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখল করেন তাই নিয়ে আলোচনা করব। রাশিয়াকে সুপার পাওয়ার করার জন্যে যারা আজও স্ট্যালিনের ভক্ত, তারা যেন এটা না ভুলে যান, স্ট্যালিনের অনেক কম সময়ে হিটলার জার্মানীকে সুপার পাওয়ার করেছেন। বস্তুত রাশিয়ান শীত না থাকলে মস্কোর পতন নিশ্চিত ছিল জার্মানদের হাতে। সবথেকে বড় কথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সোভিয়েত ইউনিয়ানকে সুপার পাওয়ার বলা হলেও-আদৌ তাদের সেই স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না সেটাও বিশ্লেষন করা  দরকার। যেটা আমি বলতে চাইছি-সেটা হল এই-কোন সমাজের বস্তুবাদি উন্নতি করতে যদি কোটি কোটি নাগরিককে ক্রীতদাশ বানাতে হয় এবং কোটি কোটি লোকের প্রান যায়, সেই বস্তুবাদি উন্নতির কি কোন অর্থ থাকে?  যদি ধরেই নি আজ বাংলাদেশে হিটলার বা স্ট্যালিনের মতন ডিক্টেটররা এসে দশ-বিশ  বছরে ডান বা বাম পথে বাংলাদেশকে মালেশিয়া বা চীনের মতন উন্নত দেশে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। কিন্ত ফলস্বরূপ দুই তিন কোটি লোক অর্ধাহারে, অনাহারে, ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে মারা গেল। সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করা হল। বাংলা সাহিত্যে এবং সংস্কৃতিতেও লালবাতি জ্বলে গেল-যেমনটা স্ট্যালিনিস্ট রাশিয়াতে হয়েছে। পৃথিবীর সব থেকে সমৃদ্ধশালী সাহিত্যের দেশ, স্টালিনের অত্যাচারে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এতটা ক্ষতি স্বীকার করে উন্নতির কি মানে হবে? বা ভারতেই যদি ডান বা বাম ডিক্টেটর এসে, দেশটাকে চীন বা হিটলারের জার্মানী বানাতে চাই-পৃথিবীর বৃহত্তম সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে-সেটা কি খুব অর্থবহ কিছু হবে?  এখন বলতেই পারেন যে দেশের লোকেরা খেতে পায় না-তাদের আবার সাহিত্য, সংস্কৃতি নাচ-গান কি?  প্রথমত এগুলো বাদ দিয়ে কি বাংলা বা ভারতীয় জাতির আলাদা অস্তিত্ব থাকে? দ্বিতীয়ত গণতন্ত্রের পথে ভারত দারিদ্র অনেক কমিয়ে এনেছে-হয়ত চীনের মতন আমরা সফল নই। কিন্তু এটাও ত সত্য আমাদের বাপ ঠাকুর্দারা মানুষের মর্যাদা নিয়েই বেঁচেছেন। পুলিশের ভয়ে ঘরের কোনে লুকিয়ে-  অর্ধাহারে থেকে  পশুর মতন  বাঁচেন নি।পশুর বা রোবটের মতন বেঁচে বস্তুবাদি উন্নতির কি মুল্য? গণতন্ত্র অবশ্যই ত্রুটিপূর্ণ। উন্নতির পথও অনেক ধীরে। কিন্ত মানুষকে মর্যাদা দিয়ে, যে উন্নতি-তার কোন দাম নেই? যারা গণতন্ত্রের সমালোচনা করেন তারা কি হিটলারের জার্মানী বা স্ট্যালিনের রাশিয়াতে থাকতে চাইবেন? যেখানে কোন কারন বা অকারনে শুধু কোটা পূরণ করার জন্যে লোককে সাইবেরিয়া বা কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে খুন করা হত? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে কোন যুক্তিতে তারা স্ট্যালিন বা হিটলারকে মহান করেন? দরকার হলে এই প্রবন্ধের শেষে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরী স্ট্যালিনের ওপর একটা ডকুমেন্টারী আছে-দেখে নিন। দেখার পর বলুন ওই রাশিয়াতে তারা থাকতে চাইতেন কি না?

আরেকটি ছোট কথা বলে নিই। স্ট্যালিন এবং হিটলার দুজনেই স্যোশাল ডারুনিজমে বিশ্বাস করতেন [৯]। অর্থাৎ যোগ্যতম মানুষেরা দুর্বলদের মেরে বেঁচে থাকবে-এটা তারা বিশ্বাস করতেন। এই বিকৃত জ্ঞান, যা মোটেও ডারুনিজম নয় (কারন ডারুনিজম বলে প্রকৃতি সবলদের সিলেক্ট করে-দুর্বলদের ওপর সবলদের অত্যাচারের কোন কাহিনী ডারউইনের তত্ত্বে নেই), তাতে বিশ্বাস  করে, কোটি কোটি মানুষের জীবন নাশ করেছেন। জীববিজ্ঞান কিন্তু আমাদের শেখায়  পশুকুলেও নেহাত খাবারের অভাব না থাকলে কেওই অন্যদের আক্রমন করে না। অর্থাৎ হিটলার এবং স্ট্যালিন আদর্শবাদের ভাইরাসকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে পশূতের পর্যায়ে নামিয়ে এনেছিলেন। এবং এদের নিয়ে যখন বর্তমান প্রজন্মের নাচানাচি দেখি, কম্যুনিজম এবং জাতিয়তাবাদের আদর্শকে দেখে ভয় হয়-বিশ্বাসের এই ভাইরাস কিভাবে এদের সমর্থকদের ব্রেইন ওয়াশ করে পশুদেরও নীচু পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

[চলবে]

[1]http://www.russiatoday.com/news/news/32299

[2]Nenarokov, Albert P., Russia in the Twentieth Century: the View of a Soviet Historian, William Morrow Co, New York, 1968

[3]Barry McLoughlin; Kevin McDermott(eds) (2002). Stalin’s Terror: High Politics and Mass Repression in the Soviet Union

[4]Getty, Rittersporn, Zemskov. “Victims of the Soviet Penal System in the Pre-war Years“. See also: Stephen Wheatcroft (1996). “[http://sovietinfo.tripod.com/WCR-German_Soviet.pdf The Scale and Nature of German and Soviet Repression and Mass Killings, 1930-45]” (PDF). and Stephen Wheatcroft (1990). “More light on the scale of repression and excess mortality in the Soviet Union in the 1930s

[5]Simon Sebag Montefiore. Young Stalin. 2007.

[6]http://www.youtube.com/watch?v=5AjKWU1h2Vo&feature=related

[7]The Clash Within: Democracy, Religious Violence, and India’s Future[8]http://www.nationalreview.com/nr_comment/nr_comment071802a.asp

[9] Lenin, Stalin and Hitler: Age of Social Catastrophe -Robert Gelateley

 

    স্ট্যালিনের জমানার ওপর একটি ভাল ডকুমেন্টারীঃ

  ১।http://www.youtube.com/watch?v=fun9pGb8wHw

 ২|http://www.youtube.com/watch?v=bOdr6XE70Rk&feature=related

৩|http://www.youtube.com/watch?v=yWa0Dxo1ngA&feature=related

৪|http://www.youtube.com/watch?v=cw59cnY0Rr0&feature=related

৫|http://www.youtube.com/watch?v=st6rxfI2iS8&feature=related

৬|http://www.youtube.com/watch?v=lNfwEH0yt-s&feature=related

৭|http://www.youtube.com/watch?v=6rVGwnArBxI&feature=related

৮|http://www.youtube.com/watch?v=5AjKWU1h2Vo&feature=related

৯|http://www.youtube.com/watch?v=_75DZ6PdFiM&feature=related


. বিপ্লব পাল, আমেরিকাতে বসবাসরত পদার্থবিদ, গবেষক এবং লেখক। এক সময় ভিন্নমতের মডারেটর ছিলেন, বর্তমানে www.fosaac.tv সম্পাদনার সাথে জড়িত।

By Martha Craven Nussbaum